AsiaNews24 | News Details

আমরা বিজয়ী জাতি বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব

Category : Bangladesh | Sub Category : News Posted on 2020-11-01 00:02:30


আমরা বিজয়ী জাতি বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বিজয়ী জাতি। এ জাতি কেন অন্যের কাছে হাত পেতে চলবে, মাথা নিচু করে চলবে। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব।


বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।


লাখো শহীদ বুকের তাজা রক্ত এবং লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেই আমরা কাজ করছি।


তিনি বলেন, দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করে দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্যই আমরা আমাদের সমস্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং যথেষ্ট অর্জনও করেছি।


তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের আগমনে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লেও আমরা এটা মোকাবেলায় প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।


দেশের মানুষ যেন এর থেকে সুরক্ষা পায় এবং অর্থনীতির গতিশীলতা যেন না হারায়, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করে যাচ্ছি।


শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা যখন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করলেন এবং ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে গ্রাম পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদক্ষেপ নিলেন, ঠিক সেই সময় তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হল।


তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করেন। কারাগারে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেন।


যদিও জাতির পিতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এই বিচার শুরু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে যারা দেশ ছেড়ে গিয়েছিল তাদের ফিরিয়ে আনেন, মন্ত্রিত্ব দেন এবং উপদেষ্টা করেন।


জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন। এরা সেই খুনি যারা গর্ব করে বলত, কে তাদের বিচার করবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়।


৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দিত জানান তিনি।


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পুরস্কার প্রদান করেন।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি পুরস্কার বিজয়ীদের জীবনবৃত্তান্ত পড়ে শোনান।


স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, চিকিৎসাবিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর সরকার দু’জনকে মরণোত্তরসহ ৮ ব্যক্তি ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০’-এ ভূষিত করে।


পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন : স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, প্রয়াত কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ (মরণোত্তর), প্রয়াত বুদ্ধিজীবী মুহম্মদ আনোয়ার পাশা (মরণোত্তর) ও আজিজুর রহমান। চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. একেএমএ মুকতাদির।


সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস। আজিজুর রহমান সম্প্রতি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।


পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারট সোনার একটি ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। এ সময় পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে প্রফেসর ডা. একেএমএ মুকতাদির অনুভূতি ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, বুদ্ধিজীবী, দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্বসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ পিএমও এবং গণভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচার করে।


প্রতিবছর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সরকার এ পুরস্কার প্রদান করে এলেও এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে যথাসময়ে অনুষ্ঠানটি হতে পারেনি।

Leave a Comment: